ইচ্ছে ছিল নদী হওয়ার, পাহাড় চিড়ে বয়ে যাওয়া এক ছোট্ট নদী,
বয়ে যেতাম অনাবিল আনন্দে, আপোষ করতাম না কিছুর সাথেই।
দুই ধারে থাকত আমার শারি শারি পাইনের বন, সেই সবুজের ভিতর আমি বয়ে যেতাম ধিকধিক করে....
ঘন সবুজের হাহাকার গ্রাস করত আমায়,
অম্লান বদনে বয়ে যেতাম শুধুই বয়ে যেতাম।
টুকরো টুকরো নুড়ির দল দুলকি চালে সঙ্গ দিতো,
পথে পড়ত অচেনা কোনো আদিবাসী গ্রাম, আপন করে নিত আমার দুধর্ষ রূপ....
হয়তো বা কোনো পল্লীবালিকা কুড়িয়ে নিত আমার থেকে ঝিনুক, আমি দেখতাম তার যত্ন, আমার টুকরো অংশের প্রতি.....
বর্ষায় গর্জে উঠতাম, কারোর তোয়াক্কা না করে আছড়ে পড়তাম পাহাড়ের বুকে, মাতাল করা সেই ঋতুতে আমি নিজেকে আবারও নতুন করে চিনতাম.....
কিন্তু আমার নদী হওয়া হয়নি, পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে সামান্য দিঘি হওয়ারও সুযোগ হয়নি.....
ছোট্ট ডোবা, কিছুটা আশা রেখেছিলাম শেষ ঋতুতে যে, কমল ফুটবে আমার বুকে, নীল কমল।।
আজকে আমি সবুজ, ঘন সবুজ। আমার সর্বস্ব জুড়ে বাসা বেঁধেছে রেশমি শৈবাল, অনেক সুন্দর সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করে তার আভা.....তবে ওরা আর কাউকে থাকতে দেয়নি,
ছোটো ছোটো সেই মাছগুলো যারা আমাকে রোজ কাতুকুতু দিয়ে দৌড় দিতো, তারা আজ মৃত। জনমানবের বসতি আমাকে পরিত্যক্ত করেছে আর বর্ষায় ক্ষণিকের জন্য একদল ব্যাঙের ডাক শোনা যায়.....দূরে মিলিয়ে যায় আসতে আসতে,
আমি অপেক্ষায় আছি এক চরম দুর্যোগের যেখানে আমি বেরিয়ে যাব আমার দুকূল ছাপিয়ে, বইতে বইতে গিয়ে পড়ব কোনো বড়ো নদীতে......একটি সুন্দর মৃত্যু ।।
-Sufi | Moderator
Comments
No comments yet. Be first.
Please log in to comment.